Pages

Monday, November 26, 2018

দেবী ভৈরবী কান্তির রজোগুণ এবং শক্তির প্রতীক


দেবী ভৈরবী

দশমহাবিদ্যার পঞ্চম মহাবিদ্যা হলেন দেবী ভৈরবী। শান্ত ও রুদ্রমুর্তি, ধৈর্য ও চাঞ্চল্য, কঠোরতা এবং কোমলতা - এইরকমই পরস্পর বিরুদ্ধভাবের সমন্বয় এবং সহাবস্থান ঘটেছে ভৈরবীতত্ত্বে। কুব্জিকাতন্ত্রের মতে, কালভৈরবের সহধর্মিণী বলে দেবীকে ভৈরবী বলা হয়। শারদাতিলকে উল্লিখিত দেবীর ধ্যানমন্ত্র অনুযায়ী, দেবী উদিয়মান সহস্র সূর্যের মতো দীপ্তিময়ী। তার পরিধানে রক্তবর্ণ ক্ষৌমবস্ত্র (রেশমিবস্ত্র বা পট্টবস্ত্র) এবং গলায় মুন্ডমালা। দেবীর পয়োধর রক্তলিপ্ত। তাঁর চারহাতে জপমালা,পুস্তক,অভয় এবং বর। দেবী ত্রিনয়নী, তাঁর মুখমন্ডল প্রস্ফুটিত পদ্মের মতো সুন্দর। তাঁর মস্তকে রত্নমুকুট এবং চন্দ্রকলা। উদীয়মান সহস্রসুর্যের মতো দেবীর কান্তির রজোগুণ এবং শক্তির প্রতীক।দেবীর সৃজনক্ষমতার জন্য তাঁর অপর নাম বৈরোচনী।
 "বিরোচন" শব্দের অন্যতম অর্থ সূর্য। ঋগ্বেদে সূর্য কৃষির দেবতা। তাই দেবীর মহা শক্তির সঙ্গে সূর্যের তেজোময় রূপ এবং প্রকৃতিপালনের তাৎপর্য প্রকাশ করা হয়েছে। দেবী রজোগুণময়ী বলে তাঁর বর্ণ অরুণকান্তি। ক্ষৌমবস্ত্র বা পট্টবস্ত্র সুক্ষাতিসুক্ষ্ম বাসনার প্রতীক। দেবীর মুন্ডমালার পঞ্চাশটি মুন্ড সংস্কৃত বর্ণমালার পঞ্চাশৎ মাতৃকাবর্ণের প্রতীক। আদিবর্ণ থাকে দেবীর গ্রীবার পশ্চাতে এবং বাকি উনপঞ্চাশটি দৃশ্যমান বর্ণে থাকে উনপঞ্চাশ রকম দৈবীশক্তির প্রকাশ। দেবী সকল জীবকে বীজরূপে আপন গর্ভে ধারণ করেন এবং তপঃ, ক্লেশ ও ইচ্ছাশক্তির প্রভাবে তাঁদের প্রাকৃত জগতে ব্যক্ত করেন। এইভাবে অব্যক্ত থেকে ব্যক্ত জগতে প্রকাশিত করার জন্যই জীবসত্ত্বাকে খন্ড খন্ড বিষয়জ্ঞান দ্বারা পরিপুষ্ট করতে হয়। এই বিষয়জ্ঞানেরই প্রতীক হল রক্ত। সেই কারণেই দেবীর স্তনদ্বয় রক্তলিপ্ত। দেবীর জপমালা নিরন্তর কর্মশক্তি এবং পুস্তক জ্ঞানের প্রতীক। দেবী ভৈরবী সর্বশক্তির সম্মিলিত প্রকাশ।তিনিই সৃষ্টি,স্থিতি এবং লয়ের আধারস্বরুপা।

0 comments:

Post a Comment

 
Design by দেবীমা | Bloggerized by Lasantha - Premium Blogger Themes | Facebook Themes