Pages

Sunday, January 6, 2019

জ্বালামুখী দেবীর শক্তিপীঠ


মা জ্বালা দেবীর  শক্তিপীঠ

মা জ্বালা দেবীর এর একটি লীলার কথা শোনা যায়। ঘটনা টা ঐতিহাসিক। মধ্যযুগের ঘটনা । ১১৯২ খ্রীঃ রাজপুত সূর্য বংশীয় রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহান নিহত হন। তরাইণের দ্বিতীয় যুদ্ধে মোহম্মদ ঘোরী তাঁকে ছল চাতুরী করে যুদ্ধে বধ করেন। এরপর ভারতবর্ষে দিল্লীতে সুলতানী সাম্রাজ্যের সূচনা হয় । সুলতানী বংশের পরে ভারতে তুঘলক বংশের সূচনা হয় । মোহম্মদ- বিন-তুঘলক কে ‘পাগলা রাজা’ বলা হয় আদতে তিনি তা ছিলেন না। বরং তাঁর সময়ে হিন্দু নির্যাতন ছিল তুলনামূলক ভাবে অনেক কম। কিন্তু ফিরোজ শাহ তুঘলক ছিলেন ঠিক উল্টো। ঘোর ভাবে হিন্দু বিরোধী। এমনকি ইনি স্বধর্মের শিয়া সম্প্রদায়ের বই পত্র পর্যন্ত পুড়িয়ে দেন । ডঃ হীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, ডঃ অসিত কুমার হাজরার ‘ভারতের ইতিহাস’ এ লিখেছেন ইনি প্রচুর মন্দির ধ্বংস করেন, প্রচুর হিন্দু রাজ্য দখল করে লুঠপাঠ, নারী হরণ ইত্যাদি কুকাজ করেন । ডঃ প্রভাতাংশু মাইতির ‘ভারতের ইতিহাস’ এ লিখেছেন- ইনি পুরীর জগন্নাথ মন্দির আক্রমণ করেন, লুঠপাঠ চালান অবাধে ।
 ডঃ মাইতির ‘ভারত ইতিহাস পরিক্রমা’ থেকে জানা যায় ফিরোজ শাহ কাংরা আক্রমণ করেছিলেন । যদিও সেই আক্রমণ সফল হয় নি। বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে ফিরোজ শাহ জ্বালা দেবীর মন্দির লুঠপাঠ ও ধ্বংস করার জন্য রওনা হলেন । তাঁর সেনারা নানান অস্ত্র নিয়ে অশ্ব ছুটিয়ে ধাবমান হলেন । কিন্তু পথে এক জায়গা তে তারা মৌমাছিল আক্রমণের শিকার হলেন । মৌমাছির সাথে কি লড়াই করে পারা যায় ? কাতারে কাতারে ফিরোজের সেনারা মৌমাছির বিষাক্ত হূলে মারা পড়তে লাগলো । মৌমাছির কামড়ে অস্থির হয়ে ফিরোজের বিশাল সেনা অল্প সময়েই ধ্বংস হল। শেষে নিঃসম্বল ফিরোজ অল্প হাতে গোনা সেনা নিয়ে ফিরে গেলো। জ্বালা পীঠ ধ্বংস তার আর করা হল না। মার্কণ্ড পুরানে আছে দেবী শয়ে শয়ে ভীমরুলের রূপ ধরে অরুনাসুর কে বধ করেছিলেন । এখনও স্থানীয় লোকের বিশ্বাস মা জ্বালা সেদিন শত মৌমাছির রূপ ধরে ফিরোজের সেনাকে ধ্বংস করেছিলেন । ফিরোজ ছিল ধর্মান্ধ । স্বজাতির লোককেও অনেক সময় বিশাল অপরাধে নাম মাত্র শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দিতেন, বা শাস্তি দিতেন ই না। শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর তিনি হামলা চালান বহুবার । হিন্দুদের ওপর নানান কর চাপান । ফিরোজ শাহ শেষ জীবনে খুব দুঃখের সাথে কাটান । তাঁর নিজের লোকেরাই তার সাথে বেইমানী করে প্রচুর যাতনা দেয় । কষ্ট পেয়ে তিনি মারা যান । এবার মন্দির সম্বন্ধে আসি । শিখদের দশম গুরু গোবিন্দ সিং এই মন্দিরে তাঁদের ধর্মগ্রন্থ ‘গ্রন্থসাহিব’ নিত্য পাঠ ও দেবীর পূজা করতেন । তিনি ১৮১৫ খ্রীঃ মন্দির সংস্কার করে এক ভব্য মন্দির নির্মাণ করেন । তাঁর পুত্র খড়গ সিং মন্দিরের দরজা, চৌকাঠ রূপো দিয়ে মুড়ে দেন । দেবীর অগ্নি শিখার বাদিকে গণেশ ও গুরু আচার্য শঙ্করের মূর্তি আছে। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলে মহাকাল, মহাবীর, কালভৈরব মূর্তি দেখা যায়। মন্দিরে পাণ্ডার কোন উৎপাত নেই। পুরোহিতের হাতে ডালা দিলে তিনিই পূজো দিয়ে ডাল ফেরত দিয়ে দেন । মন্দির প্রাঙ্গনে রুদ্রকুন্ড, গোমুখী, ব্রহ্মকুন্ড নামক তিনটি কুণ্ড দেখা যায় । রুদ্রকূন্ডর জল অনবরত ফোটে, তবে তাপমাত্রা কম। এই পবিত্র জল স্পর্শের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এখানে নাকি অনেকে দিব্য জ্যোতি দেখেন । একে স্থানীয় ভাষায় ‘লন্ঠনওয়ালী’ বলে ডাকা হয় । ছবিতে দেখুন মায়ের সেই দিব্য জ্যোতি ।

0 comments:

Post a Comment

 
Design by দেবীমা | Bloggerized by Lasantha - Premium Blogger Themes | Facebook Themes