Pages

Tuesday, January 22, 2019

লঙ্কা ইন্দ্রাক্ষী শক্তিপীঠ রাক্ষসেশ্বর


ইন্দ্রাক্ষী শক্তিপীঠ

“লঙ্কা” নামটা সবারই শোনা । বর্তমানে এটি শ্রীলঙ্কা নামে পরিচিত । রামায়নে এই রাজ্যের নাম পাওয়া যায় । যেখানে রাক্ষসেরা থাকতো । লঙ্কায় রাক্ষস দের রাজা ছিলেন দশানন রাবণ । বহু পূর্বে শিবের ইচ্ছায় দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা এই লঙ্কা নগরীর নির্মাণ করেন। এক সময় এখানে যক্ষাধিপতি কুবের তাঁর পরিবারবর্গ নিয়ে থাকতেন । পরে রাবণের রাজ্য হয় । বর্তমানে আলোচ্য পীঠ লঙ্কায়।

তবে এই পীঠের অবস্থান নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ আছে । রাবণ ছিলেন শিব শক্তি উপাসক । ভদ্রকালী দেবীকে রাবণ দুর্গা রূপে পূজা করতেন । এই পীঠ সম্বন্ধে পীঠনির্ণয়তন্ত্র গ্রন্থে লিখিত আছে –

লঙ্কায়াং নূপুরশ্চৈব ভৈরবো রাক্ষসেশ্বরঃ । 
ইন্দ্রাক্ষী দেবতা তত্র ইন্দ্রোণোপাসিতা পুরা ।।

দেবীর এখানে নূপুর পতিত হয়। দেবীর নাম ইন্দ্রাক্ষী ভৈরবের নাম রাক্ষসেশ্বর । এই দেবীকে দেবতাদের রাজা ইন্দ্রদেবতা পূজা করেছিলেন। কেন ? পরে সেই ঘটনা বলা যাবে । লঙ্কা নগরী নাকি দেবী চামুণ্ডা, শিবের আদেশে পাহাড়া দিতেন। ভগবান শিব বলেছেন- যবে হনুমান লঙ্কাতে আগমন করবে- তবে থেকে দেবীর প্রহরীর দায়িত্ব সমাপন হবে। শ্রীরামের দূত হয়ে হনুমান ভগবান রামের অঙ্গুষ্ঠি নিয়ে আসলে দেবী চামুণ্ডার সাথে সাক্ষাৎ হয়। দেবী বলেন – “এবার লঙ্কার পতনের খুব সময় নেই।” এই বলে দেবী অদৃশ্য হয়েছিলেন । প্রাচীন গ্রন্থে সিংহল নাম পাওয়া যায় । অনেকে সিংহল ও লঙ্কাকে এক ধরেন । কবিকঙ্কণ মুকুন্দরামের “চণ্ডীমঙ্গল” কাব্যে সিংহল এর নাম পাওয়া যায় । ব্রহ্মযামলের আদ্যাস্তবে বলা হয়েছে-

পাতালে বৈষ্ণবীরূপা সিংহলে দেবমোহিণী
সুরসা চ মনিদ্বীপে লঙ্কায়াং ভদ্রকালিকা ।

এখানে সিংহল ও লঙ্কাকে আলাদা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে- সিংহলে দেবমোহিণী রূপে ভগবতী বিরাজ করেন, আবার তিনিই ভদ্রকালী রূপে লঙ্কায় বিরাজ করেন । কিন্তু দেবীকে এখানে ইন্দ্র আরাধিতা দেবী “ইন্দ্রাক্ষী” নাম বলা হয়েছে । কি কারণে ইন্দ্র এখানে দেবীর পূজা করলেন ? তিঁনি কি দেবীর কৃপায় সমস্যার সমাধান করতে পেরেছিলেন ? জানতে অপেক্ষা করুন আগামী পর্বের জন্য ।

0 comments:

Post a Comment

 
Design by দেবীমা | Bloggerized by Lasantha - Premium Blogger Themes | Facebook Themes