Pages

Monday, April 8, 2019

মস্তকে অর্ধচন্দ্র থাকে , তাই দেবীকে চন্দ্রঘণ্টা নামে ডাকা হয়

আশ্বিনের উষালগ্নে বহুবলধারিণী, রিপুদলবারিণী দেবীর আবির্ভাবে জেগে ওঠে ধরণী। প্রাণিত হয় ভক্তকুল। মহামায়ার শাশ্বত অভয়বাণীতে দিক হারানো, শঙ্কিত মানুষজন আলোর দিশা খুঁজে পায়। আগমনির আলোয় উদ্ভাসিত হয় চারধার। দেবী অসুরবিনাশিনী। দুর্গা মানে দশভুজা, মহাশক্তি, মহামায়া। তিনি মাতৃরূপিণী, শক্তিরূপিণী, বিপত্তারিণী জননী। দেবী দুর্গা দশভুজা ছাড়াও আরও নানারূপে আবির্ভূতা হন। সব রূপেই দেবী মহাশক্তির আধার। অশুভ শক্তি বিনাশকারী মাতৃরূপা। মা দুর্গার আরেক বিশেষ রূপ হল দেবী চন্দ্রঘণ্টার রূপ। এই রূপ দেবীর শক্তির রূপ।
এই রূপে দেবী দুর্গার কপালে থাকে অর্ধচন্দ্র। যা কিনা চাঁদের মতোই সুন্দর, স্নিগ্ধ ও উজ্জ্বল। চন্দ্রঘণ্টা হলেন দেবীর সেই শক্তির রূপ, যা অসুর বিনাশিনী। তিনি দশপ্রহরণধারিণী। তাঁর গায়ের রং সোনার মতো উজ্জ্বল, পরনে লাল শাড়ি, গায়ে নানা বৈচিত্র্যময় অলঙ্কার। এই রূপে দেবী দশভুজা আটটি হাতে আটটি অস্ত্রে সজ্জিত, বাকি দুই হাতে বরাভয় মুদ্রা।
রম্ভাসুরের ছেলে মহিষাসুর যখন বীর বিক্রমে দেবতাদের হারিয়ে দিয়ে স্বর্গরাজ্যের দখল নিয়েছিল, তখন দেবতারা একত্রিত হয়ে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরের শরণাপন্ন হয়েছিল। সে সময় ওই তিন দেবতা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হওয়ায় তাঁদের দেহ থেকে তেজোরাশি নির্গত হতে থাকে। ক্রমে অন্যান্য দেবতারাও নিজেদের শরীর থেকে তেজোরাশি বাইরে এনে ওই তেজকে সমৃদ্ধ করেন। দেবতাদের দেহসঞ্জাত এই সম্মিলিত তেজ থেকে সৃষ্টি হল অপরূপা এক দেবীমূর্তির। সমস্ত দেবতার শক্তিতে শক্তিময়ী দেবীর আবির্ভাবে আনন্দিত দেবতারা তাঁকে সজ্জিত করলেন নিজ নিজ অস্ত্রে। তাঁকে নানা অলঙ্কার, বস্ত্রে ও দ্রব্যসম্ভারে সাজিয়ে তুলেছিলেন। ইন্দ্র সেই সময় তাঁর বাহন ঐরাবতের গলা থেকে ঘণ্টা খুলে দিয়ে তা থেকে আরেকটি ঘণ্টা তৈরি করে দেবীর হাতে দিলেন। যুদ্ধে, উত্‌স঩বে সুপ্রাচীনকাল থেকে নানান বাদ্য বাজানো হয়ে থাকে। তবে এই দৈবশক্তিসম্পন্ন ঘণ্টার ভুবনবিদারী শব্দে দৈত্যরা ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। দেবী তাদের তেজ হরণ করে নিয়েছিলেন। এই কারণেই দেবীর আরেকটি নাম চন্দ্রঘণ্টা।
যুদ্ধের সময় দেবী যখন এই ঘণ্টাটি বাজান তখন অসুরকুল নিস্তেজ হয়ে পড়ে। শ্রীশ্রী চণ্ডীর স্তবেও এর উল্লেখ রয়েছে। অসীম সাহস আর সৌন্দর্যের প্রতীক হলেন এই দেবী যাঁর কপালে থাকে অর্ধচন্দ্র। নবরাত্রির উত্‌স঩বের তৃতীয় দিনে তাঁর পুজো করা হয়। চন্দ্রঘণ্টা বা চিত্রঘণ্টা নামেও তিনি পরিচিত। নবরাত্রির সময়ে দেবীকে দুধ, মিষ্টি ও ক্ষীর ভোগ হিসেবে সাজিয়ে দেন ভক্তরা।

0 comments:

Post a Comment

 
Design by দেবীমা | Bloggerized by Lasantha - Premium Blogger Themes | Facebook Themes